| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘উদ্ভিদের এপিডার্মিস একটি…’ চট্টগ্রাম কলেজ ২০২৬ – টিস্যু ও টিস্যুতন্ত্র, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

উদ্ভিদের এপিডার্মিস একটি অবিচ্ছিন্ন স্তর হিসেবে অবস্থান করলেও সেখানে ছিদ্রপথযুক্ত দুই প্রকার অঙ্গ রয়েছে। এক প্রকার ছিদ্রপথ দিয়ে গ্যাসীয় বিনিময় ঘটলেও অন্য প্রকার ছিদ্রপথে তরল নির্গত হয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৮
দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের কাণ্ডে মজ্জা বা মেডুলা () হতে উৎপন্ন হয়ে দুটি ভাস্কুলার বান্ডল ()-এর মাঝখান দিয়ে পেরিসাইকল () পর্যন্ত বিস্তৃত প্যারেনকাইমা () কোষের সরু বা রশ্মির ন্যায় স্তরকে মজ্জারশ্মি বা বলে।
উদ্ভিদের এপিডার্মিস বা ত্বকীয় টিস্যুতন্ত্র () এবং ভাস্কুলার টিস্যুতন্ত্র () ছাড়া উদ্ভিদদেহের বাকি সম্পূর্ণ অংশ গঠনকারী টিস্যুতন্ত্রকে ভিত্তি বা গ্রাউন্ড টিস্যুতন্ত্র () বলে।
এটি পেরিব্লেম () ভাজক টিস্যু থেকে উৎপত্তি লাভ করে। এটি সাধারণত প্যারেনকাইমা টিস্যু দিয়ে গঠিত হলেও অনেক ক্ষেত্রে কোলেনকাইমা ও স্ক্লেরেনকাইমা টিস্যু একত্রে থাকতে পারে। পাতার গ্রাউন্ড টিস্যুকে মেসোফিল () বলা হয়। উদ্ভিদদেহে খাদ্য তৈরি, খাদ্য সঞ্চয় এবং আংশিকভাবে দৃঢ়তা প্রদান করাই এই টিস্যুতন্ত্রের প্রধান কাজ।
উদ্দীপকের প্রথমোক্ত ছিদ্রপথযুক্ত অঙ্গটি হলো পত্ররন্ধ্র বা স্টোমাটা (), যার মাধ্যমে উদ্ভিদের গ্যাসীয় বিনিময় ঘটে। নিচে একটি আদর্শ পত্ররন্ধ্রের গঠন সচিত্র বর্ণনা করা হলো:
গঠন:
১. রক্ষীকোষ (): প্রতিটি পত্ররন্ধ্র দুটি অর্ধচন্দ্রাকার বা বৃক্কাকার কোষ দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে। এদেরকে রক্ষীকোষ বলে। রক্ষীকোষের স্ফীতি ও শ্লথ অবস্থার ওপর ভিত্তি করে পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়া নিয়ন্ত্রিত হয়।
২. কোষ প্রাচীর: রক্ষীকোষের রন্ধ্র সংলগ্ন ভেতরের দিকের প্রাচীরটি বেশ পুরু এবং বাইরের দিকের প্রাচীরটি পাতলা হয়।
৩. কোষীয় অঙ্গাণু: প্রতিটি রক্ষীকোষে একটি সুস্পষ্ট বড় নিউক্লিয়াস, বহু ক্লোরোপ্লাস্ট এবং ঘন সাইটোপ্লাজম থাকে।
৪. সহকারী কোষ (): রক্ষীকোষের চারপাশে অবস্থিত সাধারণ ত্বকীয় কোষ থেকে ভিন্ন আকৃতির এক বা একাধিক কোষ থাকতে পারে, এদেরকে সহকারী বা সাবসিডিয়ারি কোষ বলে।
৫. উপ-পত্ররন্ধ্রীয় প্রকোষ্ঠ (): পত্ররন্ধ্রের ঠিক নিচেই একটি বড় বায়ুকুঠুরি থাকে, একে উপ-পত্ররন্ধ্রীয় প্রকোষ্ঠ বা শ্বাসকুঠুরি বলে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ১ম ছিদ্রপথযুক্ত অঙ্গটি হলো পত্ররন্ধ্র বা স্টোমাটা () এবং ২য় ছিদ্রপথযুক্ত অঙ্গটি (যেটি দিয়ে তরল নির্গত হয়) হলো পানি পত্ররন্ধ্র বা হাইডাথোড ()।
নিচে এদের মধ্যে তুলনামূলক মন্তব্য বা পার্থক্য ছক আকারে দেওয়া হলো:
| বৈশিষ্ট্যের ভিত্তি | পত্ররন্ধ্র বা স্টোমাটা () | পানি পত্ররন্ধ্র বা হাইডাথোড () |
| ১. অবস্থান | পাতার ঊর্ধ্ব ও নিম্নত্বকে (সাধারণত মেসোফাইট উদ্ভিদে) বেশি থাকে। | পাতার কিনারা বা অগ্রভাগে (যেমন- কচু, ঘাস, টমেটো) থাকে। |
| ২. নির্গত বস্তুর অবস্থা | প্রস্বেদন প্রক্রিয়ায় পানি বাষ্পাকারে (গ্যাসীয়) নির্গত হয়। | গাটেশন () প্রক্রিয়ায় পানি তরল বিন্দু আকারে নির্গত হয়। |
| ৩. খনিজ লবণ | নির্গত পানির সাথে কোনো খনিজ লবণ থাকে না। | নির্গত পানির সাথে বিভিন্ন খনিজ লবণ দ্রবীভূত থাকে। |
| ৪. রন্ধ্রের নিয়ন্ত্রণ | রক্ষীকোষের সাহায্যে রন্ধ্রের খোলা ও বন্ধ হওয়া নিয়ন্ত্রিত হয়। | রন্ধ্র সর্বদা উন্মুক্ত থাকে, কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। |
| ৫. এপিথেম () | রন্ধ্রের নিচে এপিথেম নামক কোনো কোষীয় স্তর থাকে না। | রন্ধ্রের নিচে এপিথেম নামক শিথিল টিস্যু স্তর থাকে। |
| ৬. কার্যকারিতার সময় | পানি নির্গমন মূলত দিনের বেলায় (সূর্যালোকের উপস্থিতিতে) ঘটে। | পানি নির্গমন মূলত রাতে বা ভোরের দিকে ঘটে। |