উদ্ভিদের তৈরিকৃত খাদ্য একটি বিশেষ প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণরূপে জারিত হয়ে CO2, H2O ও ATP তৈরি করে। উন্নত জীবে O2, এর উপস্থিতি ছাড়া এই জারণ সম্ভব নয়। অন্যদিকে অণুজীবে অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে ATP তৈরি করে।
অ্যাডিনোসিন একটি জৈব রাসায়নিক যৌগ যা DNA ও RNA-এর অংশ এবং এটি কোষের শক্তি (অ্যাডিনোসিন ট্রাইফসফেট বা ATP) পরিবহণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কচুরিপানাতে CO2 উৎপাদন বেশি হয়, কারণ এটি একটি জলজ উদ্ভিদ এবং পানিতে থাকা অবস্থায় অতি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। দ্রুত বৃদ্ধি পেতে কোষে বেশি শক্তি দরকার হয়, এর ফলে এর শ্বসন ক্রিয়ার হার বেশি হয়, যার কারণে বেশি পরিমাণে কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2) উৎপন্ন হয়।
আমরা জানি, সবাত শ্বসন প্রক্রিয়া অক্সিজেনের উপস্থিতিতে ঘটে, কিন্তু অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে সবাত শ্বসন না ঘটে অবাত শ্বসন ঘটে। কেবলমাত্র কতিপয় অণুজীবে (ব্যাকটেরিয়া, ইস্ট ইত্যাদি) অবাত শ্বসন ঘটায়। অবাত শ্বসনে শ্বসনিক বস্তু অক্সিজেনের সাহায্য ছাড়াই কোষ মধ্যস্থ এনজাইম দ্বারা আংশিকরূপে জারিত হয়ে বিভিন্ন জৈব যৌগ, (CO2) ও সামান্য শক্তি উৎপন্ন হয়। অবাত শ্বসন প্রক্রিয়াটি নিম্নরূপ :
ধাপ-১: গ্লুকোজের অসম্পূর্ণ জারণ: এই ধাপে এক অণু গ্লুকোজ থেকে
দুই অণু পাইরুভিক এসিড, চার অণু ATP (এর মধ্যে দুই অণু ব্যবহার হয়ে যায়) এবং দুই অণু উৎপন্ন হয়। অর্থাৎ আপাতদৃষ্টিতে এ পর্যন্ত বিক্রিয়া সবাত শ্বসনের গ্লাইকোলাইসিসের অনুরূপ। তবে উৎপন্ন পাইরুভিক এসিড পরবর্তী ধাপে বিজারিত হয়ে যায় বলে অবাত শ্বসনে গ্লুকোজের অসম্পূর্ণ জারণ ঘটে- এমনটা বিবেচনা করা হয়।
ধাপ-২: পাইরুভিক অ্যাসিডের বিজারণ: সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত এনজাইমের কার্যকারিতায় পাইরুভিক অ্যাসিড বিজারিত হয়ে এবং ইথাইল অ্যালকোহল অথবা শুধু ল্যাকটিক অ্যাসিড উৎপন্ন করে। এক্ষেত্রে গ্লাইকোলাইসিসে উৎপন্ন বিজারিত NAD (অর্থাৎ ) জারিত হয়ে যে ইলেক্ট্রন, প্রোটন ও শক্তি নির্গত করে, তা ব্যবহৃত হয় পাইরুভিক অ্যাসিড থেকে ল্যাকটিক অ্যাসিড বা ক্ষেত্রবিশেষ ইথানল উৎপাদনের জন্য। অন্যদিকে, অক্সিজেনের অভাবে তখন অক্সিডেটিভফসফোরাইলেশনও চলে না। তাই অবাত শ্বসনের ক্ষেত্রে এক অণু গ্লুকোজের গ্লাইকোলাইসিসে নিট মাত্র 2 অণু ATP পাওয়া যায়।
উদ্দীপকের উল্লেখিত প্রক্রিয়াটি দ্বারা শ্বসন প্রক্রিয়াকে বুঝানো হয়েছে, যা সকল জীবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিচে এর গুরুত্ব সম্পর্কে মূল্যায়ন করা হলো-
শ্বসন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন শক্তি দিয়ে জীবের সব ধরনের ক্রিয়া-বিক্রিয়া ও কাজকর্ম পরিচালিত হয়। শ্বসনে নির্গত জীবের প্রধান খাদ্য শর্করা উৎপন্নের জন্য সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়। এ প্রক্রিয়া উদ্ভিদের খনিজ লবণ পরিশোষণে সাহায্য করে, যা পরোক্ষভাবে উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও অন্যান্য জৈবিক প্রক্রিয়া চালু রাখে। কোষ বিভাজনের প্রয়োজনীয় শক্তি ও কিছু আনুষঙ্গিক পদার্থ শ্বসন প্রক্রিয়া হতে আসে। তাই এ প্রক্রিয়া জীবের দৈহিক বৃদ্ধিও নিয়ন্ত্রণ করে। এ প্রক্রিয়া বিভিন্ন উপক্ষার ও জৈব এসিড সৃষ্টিতে সহায়তার মাধ্যমে জীবের অন্যান্য জৈবিক কাজেও সহায়তা করে। কিছু কিছু ব্যাকটেরিয়া অক্সিজেনের উপস্থিতিতে বাঁচতে পারে না। এদের শক্তি উৎপাদনের একমাত্র উপায় হলো অবাত শ্বসন। এ প্রক্রিয়ায় ইথাইল অ্যালকোহল তৈরি হয়, যা বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত হয়। ল্যাকটিক এসিড ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দধি, পনির উৎপাদিত হয়। বুটি তৈরিতে এ প্রক্রিয়া ব্যবহৃত হয়। ইস্টের অবাত শ্বসনের ফলে অ্যালকোহল ও গ্যাস তৈরি হয়।
পরিশেষে বলা যায় যে, জীবজগতে উদ্ভিদ ও প্রাণী অর্থাৎ সকল জীবের জন্য শ্বসন প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
