| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘উল্লেখিত চিত্রটি পর্যবেক্ষণ…’ ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ ২০২৫ – পরিপাক ও শোষণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

উল্লেখিত চিত্রটি পর্যবেক্ষণ কর এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৩
ফুলকা ল্যামিলার প্রতিটি সারিকে হেমিব্রাঙ্ক বলে।
রুই মাছের হৃৎপিণ্ডকে ভেনাস হার্ট বলার কারণ- রুই মাছের হৃৎপিণ্ডের উপপ্রকোষ্ঠ ও প্রকোষ্ঠগুলোর সংযোগ ছিদ্রে একমুখী প্রবাহ সহায়ক কপাটিকা থাকায় হৃৎপিণ্ডের মধ্য দিয়ে CO₂ সমৃদ্ধ রক্ত পেছন থেকে সামনের দিকে একমুখী প্রবাহিত হয়। CO₂ সমৃদ্ধ রক্তবাহিত হয় বলে এ হৃৎপিণ্ডকে শিরা হৃৎপিণ্ড বলে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত অঙ্গটি হলো যকৃৎ। নিচে যকৃতের সূক্ষ্ম গঠন বর্ণনা করা হলো-
যকৃত উদর গহ্বরের উপরিভাগের ডানদিকে ডায়াফ্রামের ঠিক নিচে ডিওডেনাম ও ডান বৃক্কের উপর দিকে পাকস্থলির ডানপাশে অবস্থিত। এটি দেখতে লালচে বর্ণের ত্রিকোণাকার অঙ্গ। গ্লিসনস ক্যাপসুল নামক যোজক কলা দ্বারা আবৃত। ফ্যালসির্ফম লিগামেন্ট নামক মেসেন্টারি দ্বারা ডান ও বাম লোব নামক দুটি প্রধান লোবে বিভক্ত। ডান লোবটি বাম লোবের চেয়ে প্রায় ৬ গুণ বেশি বড়। ডান লোবটির অঙ্কীয় দিকে আবার কোয়াড্রেট লোব এবং কোডেট লোবে বিভক্ত। কলম আকৃতির পিত্তথলিটি কোয়াডেট লোবের নিচে যুক্ত থাকে।
প্রতি লোবিউলে অসংখ্য হেপাটিক কোষ থাকে। সাইকেলের চাকার স্পোকের মতো কোষগুলো বিন্যস্ত। রক্ত চলাচলের জন্য লোবিউলের মাঝে সাইনুসয়েড হেপাটিক শিরা, হেপাটিক ধমনি ও হেপাটিক পোর্টাল শিরা বিদ্যমান থাকে। একটি হেপাটিক ধমনির শাখা, একটি পোর্টাল শিরার শাখা ও একটি পিত্তনালির শাখা লোবিউলগুলোর অন্তর্বর্তী স্থানে দেখা যায়। যকৃত নালি পিত্তনালির সাথে মিলিত হয়ে অভিন্ন পিত্তনালি গঠন করে। এটি পরে ভ্যাটার এর অ্যাম্পুলা নামক নালির মাধ্যমে ডিওডেনামে উন্মক্ত হয়।
উদ্দীপকের উল্লেখিত অঙ্গটি হলো যকৃৎ। যকৃৎ মানবদেহে বিপাকীয় এবং শারীরবৃত্তীয় উভয় কার্যকলাপ সম্পন্ন করে। নিচে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হলো-
যকৃতের বিপাকীয় ভূমিকা:
১. শর্করা বিপাক: যকৃৎ গ্লাইকোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় গ্লাইকোজেন এবং ইনসুলিন নিঃসরণের মাধ্যমে শর্করা বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে।
২. প্রোটিন বিপাক: যকৃৎ ডিঅ্যামিনেশন এবং প্লাজমা প্রোটিন উৎপাদনের মাধ্যমে প্রোটিন বিপাকে অংশগ্রহণ করে।
৩. ফ্যাট বিপাক: যকৃৎ অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেটকে ফ্যাটে রূপান্তর করে এবং রক্ত থেকে ক্লোলেস্টেরল সরিয়ে ফ্যাট বিপাকে অংশগ্রহণ করে।
৪. তাপ উৎপাদন : যকৃতের অভ্যন্তরে নানা ধরনের বিক্রিয়া সংঘটিত হওয়ায় এখানে প্রচুর তাপ উৎপাদিত হয়। এই তাপ দেহের সমগ্র সঞ্চালিত হয়ে তাপমাত্রার স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।
৫. টক্সিন বা বিষ অপসারণ: যকৃৎ কোষের অভ্যন্তরে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় এই বিষ প্রশমিত করে।
যকৃতের সঞ্চয়ী ভূমিকা :
১. গ্লাইকোজেন সঞ্চয়: গ্লুকোজ যকৃতে গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চিত থাকে।
২. রক্তসঞ্চয়: যকৃৎ রক্তের ভাণ্ডার হিসাবে কাজ করে। ১৫০০ সি. সি. রক্ত এতে জমা থাকে। প্রয়োজনে রক্তের অভাব পূরণ করে।
৩. ভিটামিন সঞ্চয়: যকৃৎ স্নেহে দ্রবণীয় ভিটামিনসমূহ (A, D, E, K), পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন (B ও C), নিকোটিনিক অ্যাসিড এবং ফলিক অ্যাসিড সঞ্চয় করে।
৪. চর্বি ও অ্যামিনো অ্যাসিড সঞ্চয়: শর্করাকে চর্বিতে পরিণত করে এবং অ্যামিনো অ্যাসিড ও চর্বি সঞ্চয় করে যকৃত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৫. খনিজদ্রব্য সঞ্চয়: সুস্থ দেহের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ; যেমন- কপার, জিংক, কোবাল্ট, মলিবডেনাম প্রভৃতিসহ আয়রন ও পটাশিয়াম যকৃতে সঞ্চিত থাকে।