| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘উনিশশো সাতচল্লিশ সালের…’ পাঠ্যবইয়ের অনুশীলনীর সৃজনশীল প্রশ্ন – কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

উনিশশো সাতচল্লিশ সালের দেশ বিভাগের পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী এদেশবাসীর ওপর সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়সহ নানা দিক থেকে শোষণ-বঞ্চনা চালাতে থাকে। দেশের মানুষ এ সকল শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রথম সোচ্চার হয় বাংলাকে মাতৃভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার দাবি নিয়ে। এই দাবি আদায়ে ঝরাতে হয় রক্ত। পরবর্তীকালের প্রতিটি যৌক্তিক দাবির বিপরীতে পাকিস্তানিদের একের পর এক সীমাহীন দমন-পীড়ন ও অত্যাচার-বৈষম্যের বিরুদ্ধে দেশবাসী সংক্ষুব্ধ হয় এবং ফুঁসে ওঠে। তাদের উচ্চকিত স্লোগানে আন্দোলিত হয় শহর-বন্দর-গ্রাম।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২৫
মুর্মু হলো সাঁওতাল গোত্রবিশেষ। মুর্মু শব্দের অর্থ নীল গাভি।
➤ 'কপিলদাস বুড়োর কাছে সবই একটার সঙ্গে আরেকটা মেলানো বলে মনে হয়' গভীর বিবেচনাবোধের কারণে।
➤ 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পে কপিলদাস মুর্মু সবার কাছে বয়সের ভারে ঝিমিয়ে পড়া বৃদ্ধ এবং নিতান্ত অপ্রয়োজনীয় একজন মানুষ। অথচ অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ জীবনে কপিলদাস মুর্মু ঝগড়াঝাঁটি, জীবন-মরণ, রাগ-ক্ষোভ, হাসি-খুশি ভাব অনেক দেখেছে। প্রকাণ্ড কান্দর বা তার ওপরের আকাশ, নিচে টাঙন নদীর স্রোত- সবই তার দেখা, অনেক চেনা। এসব তার কাছে শেষ পর্যন্ত একটির সঙ্গে অন্যটিকে মেলানো মনে হয়েছে। সংসারের অনেক ভেতরে শান্ত, ধীর, নিরবচ্ছিন্ন একটি স্রোত আছে যা সবকিছুর ওপর দিয়ে বয়ে যায়। সেখানে কাঁপন বা উত্তেজনা বা চিৎকার নেই। এভাবে একটার সঙ্গে আরেকটা মিলে যায়।
সারকথা: সংসারের অনেক ভেতরে শান্ত, ধীর, নিরবচ্ছিন্ন একটি স্রোত আছে (যা সবকিছুর ওপর দিয়ে বয়ে যায়।
➤ উদ্দীপকের দেশবাসীর সঙ্গে কপিলদাস মুর্মুর সংগ্রামী চেতনাগত সাদৃশ্য রয়েছে।
➤ দেশিরা এ দেশের মানুষকে দুর্বল ও অসহায় ভেবে শোষণ করেছে। একসময় এ দেশের মানুষ শোষণের প্রতিবাদ করেছে।
➤ উদ্দীপকে দেশভাগের পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী এ দেশের মানুষের ওপর নানাভাবে শোষণ ও বঞ্চনা চালায়। দেশের মানুষ এসব শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রথম সোচ্চার হয় বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার দাবি নিয়ে। পরবর্তী সময়ে প্রতিটি শোষণ- বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে এ দেশের মানুষের সংগ্রামী চেতনা লক্ষ করা যায়। 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পেও কপিলদাস মুর্মুর মধ্যে একই চেতনা ফুটে উঠেছে। সাঁওতালদের বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করলে কপিলদাস মুর্মু প্রতিবাদ করেছে এবং তরুণদের ভয় ও দ্বিধাকে অমূলক প্রমাণ করেছে। এভাবে উদ্দীপকের দেশবাসীর সংগ্রামী চেতনার সঙ্গে কপিলদাস মুর্মুর সংগ্রামী চেতনার সাদৃশ্য রয়েছে।
সারকথা: শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার দিক থেকে উদ্দীপকের দেশবাসী এবং গল্পের কপিলদাসের সাদৃশ্য রয়েছে।
➤ 'কপিলদাস মুর্মুর অতীত ও বর্তমানই তাঁকে উদ্দীপকের দেশবাসীর প্রতিনিধি হিসেবে দাঁড় করিয়ে দেয়'- মন্তব্যটি যথার্থ। আমার পঠিত 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্প অবলম্বনে মন্তব্যটি যাচাই করা হলো:
➤অত্যাচারী, শোষক ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য যোগ্য নেতৃত্বের বিকল্প নেই। কারণ কোনো আন্দোলন-সংগ্রামে একজন যোগ্য প্রতিনিধি ছাড়া কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হয় না। উদ্দীপকের বর্ণনায় দেশভাগের পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর মাধ্যমে এ দেশবাসীর ওপর সর্বক্ষেত্রে শোষণ- বঞ্চনা এবং এর বিরুদ্ধে মুক্তিকামী জনতার তীব্র প্রতিবাদ ও সংগ্রামী চেতনা ফুটে উঠেছে। শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদে যারা নেতৃত্ব দিয়েছে, তারা দেশবাসীর যোগ্য প্রতিনিধি হয়ে উঠেছে। এক্ষেত্রে 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের কপিলদাস মুর্মুর অনুরূপ প্রতিনিধি হওয়ার ক্ষেত্রে দারুণভাবে প্রভাবিত করেছে তাঁর অতীত ও বর্তমান।
➤ 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পে কপিলদাস তার যৌবনের উদ্দামতা, অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদের দিকটি অনুধাবন করেছে। তার বসতবাড়ি তথা সাঁওতাল গ্রাম রক্ষা করতে শত্রুদের বিরুদ্ধে তির-ধনুক হাতে তুলে নিয়েছে। এসব দিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ 'কাজ' গল্পে কপিলদাস মুর্মু উদ্দীপকের মুক্তিকামী জনতার প্রতিনিধি হয়ে ওঠে।