| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ভাগ্যান্বেষণে ঘুরতে ঘুরতে…’ বরিশাল বোর্ড ২০২৫ – লালসালু, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

ভাগ্যান্বেষণে ঘুরতে ঘুরতে এক সময় অনেক টাকা উপার্জন করে গ্রামে ফিরে আসে শাহেদ। অর্থ আর বুদ্ধির জোরে একদিন সে গ্রামের চেয়ারম্যান হয়ে যায়। অনেক আগেই বিয়ের বয়স পেরিয়ে গেলেও গ্রামের এক কিশোরী মেয়ের দিকে নজর পড়ে তার। অভাবী পরিবারকে লোভ দেখিয়ে বিয়ে করে ফেলে তেরো বছরের চঞ্চল কিশোরী মিতুকে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
'লালসালু' উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদের নাম Tree without Roots.
"গ্রামের লোকেরা যেন রহিমারই অন্য সংস্করণ"- কথাটি দ্বারা মহব্বতনগর গ্রামবাসী মজিদের প্রথম স্ত্রী রহিমার মতোই সহজ, সরল এবং মাজার ও মজিদকে ভয় পাওয়াকে বোঝানো হয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসে রহিমা স্বভাবে ধর্মভীরু, স্বামীভক্ত, কুসংস্কারে বিশ্বাসী এবং সহজ-সরল। রহিমার এই ভীতিবিহ্বল স্বভাব স্বত মজিদের কর্মকাণ্ডের অনুকূল। রহিমা নিজে মাজার সম্পর্কে যেমন বিশ্বাস করে, তেমনই সে অন্যকেও বিশ্বাস করতে অনুপ্রাণিত করে। রহিমার মতো মহব্বতনগর গ্রামের মানুষেরা সহজ-সরল, ধর্মভীরু। ফলে তারাও রহিমার মতো কুসংস্কারাচ্ছন্ন। এ বিষয়টি বোঝাতেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
নারীলিঙ্গার দিক থেকে উদ্দীপকের শাহেদ 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ চরিত্রকে ইঙ্গিত করে।
'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ নিঃসন্তান। প্রথম স্ত্রী রহিমাকে সে সন্তানহীনতার অজুহাত দেখিয়ে পাশের গ্রাম থেকে অল্পবয়সি মেয়ে জমিলাকে বিয়ে করে আনে।
উদ্দীপকের শাহেদ অর্থসম্পদের মালিক হয়ে অর্থ আর বুদ্ধির জোরে এলাকার চেয়ারম্যান হয়ে বসে। অনেক আগে বিয়ের বয়স পেরিয়ে গেলেও গ্রামের এক কিশোরী মেয়ের দিকে নজর পড়ে তার। অভাবী পরিবারকে লোভ দেখিয়ে সে বিয়ে করে ফেলে তেরো বছরের কিশোরী মিতুকে। 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদও অভাবী ঘরের মেয়ে জমিলার বাবা-মাকে অর্থের লোভ দেখিয়ে রিয়ে করে। অথচ মজিদ ছিল তার শ্বশুরের সমবয়সি। মজিদ চরিত্রের সাথে এদিক থেকে উদ্দীপকের শাহেদের যোগসাজস বিদ্যমান।
জনজীবন ও সমাজ বাস্তবতার নিরিখে "উদ্দীপকের সমাজচিত্র যেন 'লালসালু' উপন্যাসের সমাজেরই খণ্ডিত রূপ।”- মন্তব্যটি মূল্যায়ন কর।
'লালসালু' উপন্যাসে বর্ণিত সমাজ অন্ধকারাচ্ছন্ন। অশিক্ষার দরুন সেখানে বাসা বেঁধে আছে বহু শতাব্দীর মোড়কে মোড়া কুসংস্কার। বাল্যবিবাহ, অসমবয়সি বিবাহ, বহুবিবাহ, ধর্মান্ধতা এ সমাজের মর্মমূলে বাসা বেঁধেছে।
উদ্দীপকের সমাজচিত্রেও বাল্যবিবাহ ও অসম বিবাহের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। অর্থবিত্তের মালিক শাহেদ অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে তেরো বছরের কিশোরী মিতুকে বিয়ে করেছে। অথচ তার বিয়ের বয়স পেরিয়ে গেছে আরো বহু আগে। উদ্দীপকের মতো কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজব্যবস্থা 'লালসালু' উপন্যাসেও ফুটে উঠেছে।
'লালসালু' উপন্যাসের ধর্মব্যবসায়ী মজিদ মহব্বতনগর গ্রামের মানুষের অন্ধত্বকে পুঁজি করে ধর্মব্যাবসায় নামে। এ গ্রামের সমাজব্যবস্থায় বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, অসমবয়সের বিয়ে নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। সন্তান প্রত্যাশায় পিরের পানিপড়া নেওয়া, মাজারে মানত করা, অশিক্ষা, অন্ধবিশ্বাস এ সমাজে জেঁকে বসেছে। পক্ষান্তরে উদ্দীপকের সমাজব্যবস্থায় মহব্বতনগর গ্রামের বাল্যবিবাহ ও অসম-বয়সের বিবাহ এসব বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের সমাজচিত্র যেন 'লালসালু' উপন্যাসের খণ্ডিত রূপ।