| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ ২০২৬ – নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য এবং মানবাধিকার, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৫
ব্যক্তি ও সমাজের নীতিবোধ থেকে যে কর্তব্য জন্ম নেয় এবং যা নাগরিক স্বেচ্ছায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করে থাকে তাকে নৈতিক কর্তব্য বলে।
সমাজতান্ত্রিক সরকারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ব্যক্তিগত সম্পত্তির বিলোপ সাধন এবং উৎপাদন ও বণ্টনের উপকরণগুলোর ওপর রাষ্ট্রীয় মালিকানা প্রতিষ্ঠা। এছাড়া এ ব্যবস্থায় কর্মের অধিকার ও যোগ্যতানুসারে পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা হয়, যার ফলে অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস পায়। যেমন-চীনের সংবিধানে কর্মের অধিকার ও নারী-পুরুষের সমানাধিকারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
ছকে চিহ্নিত বিষয়টি হলো মানবাধিকার। মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের মধ্যে প্রকৃতিগত পার্থক্য খুবই কম। অনেক মৌলিক অধিকারই জাতিসংঘ ঘোষিত মানবাধিকারে স্থান পেয়েছে। তবুও উভয়ের মধ্যে কিছু পার্থক্য লক্ষ করা যায়।
মৌলিক অধিকারের উৎস হলো রাষ্ট্রের সংবিধান। অপরদিকে, মানবাধিকারের উৎস হলো জাতিসংঘ। মৌলিক অধিকারের রক্ষক হলো রাষ্ট্র এবং সংবিধান। অপরদিকে, মানবাধিকারের রক্ষক হলো জাতিসংঘ। মৌলিক অধিকারের চেয়ে মানবাধিকারের পরিধি ব্যাপক ও বিস্তৃত। মৌলিক অধিকারের পরিধি যেখানে নিজ রাষ্ট্রে সীমাবদ্ধ, - সেখানে মানবাধিকারের পরিধি বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত। এক রাষ্ট্রের স্বীকৃত মৌলিক অধিকার অন্য রাষ্ট্র অপেক্ষা ভিন্নতর হতে পারে। কিন্তু জাতিসংঘভুক্ত প্রতিটি রাষ্ট্র একই ধরনের মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ও তা রক্ষা করতে বাধ্য। মৌলিক অধিকার রাষ্ট্রীয় অধিকার, কিন্তু মানবাধিকার আন্তর্জাতিক অধিকার। মৌলিক অধিকার বিকাশ লাভ করে রাষ্ট্রীয় চেতনাবোধ থেকে; কিন্তু মানবাধিকার বিকাশ লাভকরে আন্তর্জাতিক চেতনাবোধ থেকে। মানবাধিকার অপেক্ষা মৌলিক অধিকার অনেকটা সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট।
চিহ্নিত স্থানের বিষয়টি অর্থাৎ মানবাধিকার রক্ষার জন্য সুশাসন অপরিহার্য পূর্বশর্ত।
কারণ, সুশাসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা এবং অংশগ্রহণমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা প্রত্যেক মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে। সুশাসনই মানবাধিকারের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। এই অধিকারসমূহের বাস্তবায়নে সুশাসন অপরিহার্য, কারণ সুশাসনের অভাব হলে আইনের শাসন, বাকস্বাধীনতা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও সাম্যের মতো মৌলিক মানবিক মূল্যবোধ গুণগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি আইনের শাসন না থাকে তবে দুর্বলের প্রতি বিচার নিশ্চিত হবে না; যদি বাকস্বাধীনতা না থাকে তবে মতপ্রকাশের অধিকার খর্ব হবে; যদি ভোটাধিকারের সুযোগ না থাকে তবে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হবে না; যদি সাম্য না থাকে তবে কিছু মানুষ সুবিধাবঞ্চিত থেকে যাবে। এগুলোর প্রতিটি মানবাধিকার পরিপন্থী। ফলে একমাত্র সুশাসনের মাধ্যমেই এসব অধিকারের সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব। যে রাষ্ট্রে সুশাসনের মানদণ্ড বজায় থাকে, সেখানে মানুষের মর্যাদা ও স্বাধীনতা সুরক্ষিত থাকে এবং জাতিসংঘ ঘোষিত মানবাধিকার বাস্তবায়ন সহজ হয়। অর্থাৎ উদ্দীপকে প্রতিফলিত ধারণা কার্যকর করার জন্য সুশাসনের বিকল্প নেই।
তাই সার্বিকভাবে বলা যায়, মানবাধিকার রক্ষার জন্য সুশাসন অপরিহার্য। এটি মানব মর্যাদা রক্ষার নিশ্চয়তা দেয় এবং সকল মানুষের জন্য ন্যায্য ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করে।