| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ ২০২৬ – সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূুহ, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৭
Civis শব্দের অর্থ নাগরিক।
পৌরনীতিকে নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান বলা হয়। নাগরিকের উত্তম' জীবন প্রতিষ্ঠা করাই পৌরনীতির লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে পৌরনীতি নাগরিকতার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিশদভাবে আলোচনা করে। যেমন- নাগরিক ও নাগরিকতা, সুনাগরিকের গুণাবলি, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এবং নাগরিকের স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা দিক সম্পর্কে আলোচনা করে। অতএব যেহেতু পৌরনীতির মূল বিষয়বস্তু নাগরিকতাকেন্দ্রিক তাই পৌরনীতিকে নাগরিকতাবিষয়ক বিজ্ঞান বলা হয়।
চিত্রে A চিহ্নিত স্থানের সরকারব্যবস্থা হলো গণতন্ত্র। গণতন্ত্র ও একনায়কতন্ত্রের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।
গণতন্ত্র ও একনায়কতন্ত্র সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী শাসনব্যবস্থা। উভয়ের লক্ষ্য ও তা বাস্তবায়নের পদ্ধতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। গণতন্ত্র জনপ্রতিনিধি নিয়ে গঠিত। গণতন্ত্রে জনগণের হাতে শাসনক্ষমতা ন্যস্ত করা হয়। অন্যদিকে, একনায়কতন্ত্রে একজনের হাতে সকল ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে। গণতন্ত্রে সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ। পক্ষান্তরে, একনায়কতন্ত্রে একনায়কই সকল ক্ষমতার উৎস। গণতন্ত্র জনগণের সম্মতির ওপর "প্রতিষ্ঠিত ও ব্যক্তিস্বাধীনতায় বিশ্বাসী। একনায়কতন্ত্র শক্তি ও কর্তৃত্বের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং ব্যক্তিস্বাধীনতা বিরোধী। গণতন্ত্রে একাধিক - রাজনৈতিক দল থাকে। একনায়কতন্ত্রে একটির বেশি রাজনৈতিক দল গড়ে উঠতে দেওয়া হয় না। গণতন্ত্রে জবাবদিহিতা এবং প্রচার - মাধ্যমের স্বাধীনতা থাকে। অন্যদিকে, একনায়কতন্ত্রে কোনো জবাবদিহিতা নেই ও প্রচার মাধ্যমসমূহ একনায়কের নিয়ন্ত্রণে থাকে। গণতন্ত্রে আইনসভা সার্বভৌম ক্ষমতা ভোগ করে। পক্ষান্তরে, একনায়কতন্ত্রে আইনসভা একটি প্রহসনমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। গণতন্ত্রে বিচার বিভাগ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ থাকে। একনায়কতন্ত্রে - বিচার বিভাগের স্বাধীনতা একনায়কের ক্ষমতার মধ্যে পড়ে নিরপেক্ষতা অনিশ্চিত হয়ে যায়।
তাই বলা যায়, গণতন্ত্র ও একনায়কতন্ত্রের মধ্যে বিভিন্ন দিক থেকে ব্যাপক পার্থক্য বিদ্যমান।
প্রদত্ত ছকের চিহ্নিত সরকার তথা গণতান্ত্রিক সরকার সফল করার জন্য গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রতিবন্ধকতাসমূহ দূরীকরণের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও গোষ্ঠীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক আচরণ করতে হবে। এজন্য যা করা প্রয়োজন তা হলো- নাগরিকদের পরমতসহিষ্ণু হতে হবে। সবাইকে মত প্রকাশের সুযোগ দিতে হবে। অন্যের মতকে শ্রদ্ধা করতে হবে এবং অধিকাংশের মতামতকে সবার মতামত হিসেবে মেনে নেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। নিজের বা নিজ দলীয় মতামত জোর করে অন্যদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থপরতা পরিহার করতে হবে। এটি সকল নাগরিক ও রাজনৈতিক দলের জন্য প্রযোজ্য। কেবল বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করলে হবে না। দেশের মঙ্গলকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করতে হবে। নিজের অধিকার আদায়ের পাশাপাশি অন্যের অধিকারকে সম্মান করতে হবে। নিজের অধিকার আদায় যেন অন্যের অধিকার ভঙ্গের কারণ না হয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। বিভিন্ন সম্প্রদায় এবং দলের সম্প্রীতি, সহযোগিতা ও সহনশীলতা বজায় রাখতে হবে। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যকে শ্রদ্ধা করতে হবে। সেই সাথে নাগরিকদের সুনাগরিকের গুণাবলি অর্জন করতে হবে। নাগরিকদের হতে হবে বুদ্ধিমান, আত্মসংযমী ও বিবেকবান। গণতন্ত্রের বাহন হচ্ছে নির্বাচন। নির্বাচন যেন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়, সেজন্য নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে হবে। অযোগ্য লোক যেন নির্বাচিত হতে না পারে, সেজন্য নাগরিকদের সচেতনভাবে ভোট দিয়ে উপযুক্ত লোককে নির্বাচিত করতে হবে। এতে গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে। আইনের শাসন হলো গণতন্ত্রের প্রাণ। এজন্য সবাইকে আইন মানতে হবে। আইনের চোখে সবাই সমান। অতএব, সকলের প্রতি সমান আচরণ করতে হবে। অর্থাৎ সমান অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে।
উল্লিখিত পদক্ষেপসমূহ গৃহীত হলেই গণতন্ত্র সফল হবে বলে আমি মনে করি।