| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ভিকারুননিসা নূন স্কুল…’ ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ ২০২৪ – সিরাজউদ্দৌলা, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা যতিন শেখ বহু বছর ধরে প্রবাসী। থাকা-খাওয়াসহ মাসিক বেতনের বিনিময়ে তার গ্রামের বাড়ি ও সম্পদ দেখাশোনা করে মোহন। প্রচণ্ড অর্থলোভী মোহন যতিন শেখের সহায়-সম্পদের যথেচ্ছা ব্যবহার ও তা আত্মসাৎ করলেও যতিন শেখের কাছে সে ভীষণ বিশ্বাসভাজন । এবার দেশে এলে মোহন ডাকাত দলের সাথে মিলে যতিন শেখের বাড়ি ডাকাতি করে বিপুল অর্থ আত্মসাতের পরিকল্পনা করেছে। সে মনে করে অর্থই সব, অর্থের চেয়ে বড় আর কিছু নেই ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
‘নট্’ ধাতুর অর্থ ‘নড়া-চড়া করা' ।
“কত বড় শক্তি, তবু কত তুচ্ছ।”— উক্তিটি নবাব সিরাজউদ্দৌলা করেছিলেন যুদ্ধক্ষেত্রে ইংরেজ সৈন্যদের সামনে নিজেদের অবস্থান বিবেচনা করে।
• পলাশির যুদ্ধে ইংরেজদের পক্ষে মোট সৈন্য ছিল প্রায় তিন হাজার। তারা অস্ত্র চালনায় সুশিক্ষিত ছিল। সেই তুলনায় নবাবের পক্ষে সৈন্যসংখ্যা ছিল পঞ্চাশ হাজারের বেশি। ছোট-বড় মিলিয়ে ইংরেজদের কামান ছিল গোটা দশেক আর নবাবের পঞ্চাশটারও বেশি। এত বড় শক্তি নিয়েও ইংরেজদের বিরুদ্ধে পলাশির যুদ্ধে নবাবের মনে আশঙ্কা ও সন্দেহ ছিল। কারণ তাঁর মনে হয়েছে মিরজাফর, রায়দুর্লভ, ইয়ার লুৎফ খাঁ নিজেদের সেনাবাহিনী নিয়ে ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াই করবে না। তাই মিরমর্দানের সঙ্গে যুদ্ধের নকশা নিয়ে পর্যালোচনার সময় তিনি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন ।
উদ্দীপকের মোহন চরিত্রের সঙ্গে ‘ সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের উমিচাঁদ চরিত্র ও পলাশির যুদ্ধের পূর্বে ইংরেজদের সাথে তার গোপন চুক্তির ঘটনাটির সাদৃশ্য রয়েছে ।
• অর্থ-সম্পদের লোভ মানুষকে অন্ধ করে দেয়। ফলে অর্থের জন্য সে যেকোনো গর্হিত কাজও করতে দ্বিধাবোধ করে না। নিজেদের স্বার্থে সে শত্রুর সাথে হাত মিলিয়ে দেশ ও দেশের মানুষের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে ।
• উদ্দীপকের মোহন থাকা-খাওয়াসহ মাসিক বেতনের বিনিময়ে প্রবাসী যতিন শেখের গ্রামের বাড়ি ও সম্পদের দেখাশোনা করে । প্রচণ্ড অর্থলোভী মোহন যতিন শেখের সহায়-সম্পদের যথেচ্ছা ব্যবহার ও তা আত্মসাৎ করলেও যতিন শেখের কাছে সে ভীষণ বিশ্বাসভাজন । যতিন দেশে এলে মোহন ডাকাত দলের সাথে মিলে যতিনের বাড়ি ডাকাতির পরিকল্পনা করে। সে মনে করে অর্থই সব, অর্থের চেয়ে বড় আর কিছু নেই। ‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের উমিচাঁদ চরিত্রেও একই বিষয় লক্ষ করা যায়। সে ছিল প্রচণ্ড অর্থলোভী ও দালাল। দালালি ব্যবসায় করে উমিচাঁদ কোটি টাকার মালিক হয়েছিল। কখনো কখনো নবাবের প্রয়োজনে উচ্চ সুদে টাকা ধার দিয়ে নবাবের দরবারে যথেষ্ট প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিল। টাকার লোভে সে পলাশির যুদ্ধের পূর্বে ইংরেজদের সাথে গোপন চুক্তি করে। সে চুক্তি করে ইংরেজরা জয়ী হলে তাকে কুড়ি লক্ষ টাকা দেবে। এভাবে পলাশির যুদ্ধের পূর্বে সে মিরজাফর, রাজবল্লভ, রায়দুর্লভদের সাথে নবাবের বিরুদ্ধে গিয়ে গোপন চুক্তি করে যা উদ্দীপকের ডাকাত দলের সাথে মোহনের পরিকল্পনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
• “অর্থলোভ মানুষকে অন্যায় ও অনৈতিকতার দিকে ধাবিত করে । ” মন্তব্যটি উদ্দীপক এবং ‘ সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের আলোকে যথার্থ ।
• অর্থ মানুষের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। কিন্তু অর্থের প্রতি অধিক লোভ মানুষকে নিয়ে যায় বিপথে। অর্থলোভী মানুষ সামান্য অর্থের জন্য হিতাহিত জ্ঞান ভুলে গিয়ে অন্যায় ও অনৈতিক পথে ধাবিত হয়। তার কাছে ভালো-মন্দের পরিবর্তে তখন অর্থই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে।
• উদ্দীপকের প্রচণ্ড অর্থলোভী মোহন যতিন শেখের সহায়-সম্পদের যথেচ্ছা ব্যবহার ও আত্মসাৎ করতে থাকে। প্রবাস থেকে যতিন দেশে এলে মোহন ডাকাত দলের সাথে মিলে তার বাড়ি ডাকাতি করে বিপুল অর্থ আত্মসাতের পরিকল্পনা করে। সে মনে করে অর্থই সব, অর্থের চেয়ে বড় আর কিছুই নেই
• ‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকেও অর্থের লোভে পড়ে মানুষের অন্যায় কাজে জড়িয়ে পড়ার দিকটি ফুটে উঠেছে । নাটকটিতে নবাব সিরাজের অমাত্যদের মধ্যে অর্থের প্রতি প্রচণ্ড লোভ লক্ষ করা যায়। যার ফলে তারা দেশ ও দেশের স্বাধীনতা বিলিয়ে দেয় অত্যাচারী ইংরেজদের হাতে। উমিচাঁদের কাছে অর্থই হয়ে ওঠে ভগবানের দাদামশাইয়ের চেয়েও বড়। তাই সে দেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে গিয়ে ইংরেজদের সাথে হাত মিলিয়ে গোপন চুক্তি করেছে। ইংরেজদের এদেশে আগমন, ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্র, নবাবের অমাত্যদের চক্রান্ত, বিশ্বাসঘাতকতা, আত্মীয়দের প্রতিহিংসা, প্রধান সেনাপতির বিশ্বাসঘাতকতায় নবাবের শোচনীয় পরাজয় ও নির্মম মৃত্যু প্রভৃতির পেছনে রয়েছে অর্থলোভ । • উদ্দীপক ও ‘ সিরাজউদ্দৌলা' নাটক উভয় জায়গায় প্রকাশ পেয়েছে অর্থলোভে অন্যায় ও অনৈতিকতার দিকে ধাবিত হওয়ার বিষয়টি। অর্থের কারণেই শেষ পর্যন্ত সিরাজউদ্দৌলাকে মোহাম্মদি বেগের হাতে নির্মমভাবে নিহত হতে হয়েছে। তাই উপর্যুক্ত আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ ।