| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘’W’ আফ্রিকার একটি…’ আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ ২০২৬ – সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

‘W’ আফ্রিকার একটি দেশ। দেশটির সরকারি অথবা বেসরকারি কোন প্রতিষ্ঠানেই স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন নেই। এ কারণে দেশটিতে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে। তবে বর্তমানে সেখানে শিক্ষা বিস্তারের ফলে নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং রাজনৈতিক দলগুলো ও সুশীল সমাজ তাদের দেশের সমস্যাগুলো সমাধানে খুবই আগ্রহী।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো 'Good Governance'.
আইনের শাসন বলতে আইনের চোখে সবাই সমান এবং সবকিছুর উপরে আইনের প্রাধান্যের স্বীকৃতিকে বোঝায়। আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি এবং ছোট-বড় নির্বিশেষে সবাই আইনের কাছে সমান। যে কেউ আইন ভঙ্গ করলে তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে-এটি আইনের শাসনের বিধান। আইনের শাসন ব্যক্তির সাম্য ও স্বাধীনতার রক্ষাকবচ।
উদ্দীপকে বর্ণিত 'W' নামক দেশে 'সুশাসনের সমস্যা' পরিলক্ষিত হচ্ছে। একটি রাষ্ট্রে যখন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসনের অভাব থাকে, তখন সেখানে সুশাসন মরীচিকায় পরিণত হয়।
'W' দেশে বিদ্যমান সমস্যাগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
আইনের শাসনের অনুপস্থিতি : এখানে আইনের শাসন না থাকায়সুশাসনের প্রধান ভিত্তিটিই ভেঙে পড়েছে, যা ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করেছে।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব: প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা না থাকায় আমলারা, নিজেদের জনগণের প্রভু মনে করতে পারেন এবং প্রশাসন স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠে।
দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি: সুশাসনের অভাবে রাষ্ট্রে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি ছড়িয়ে পড়েছে, যা সাধারণ মানুষকে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে।
মূলত উদ্দীপকের দেশটিতে প্রশাসনিক গতিশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর দুর্বলতার কারণে সুশাসন বিঘ্নিত হচ্ছে।
উদ্দীপকের 'W' দেশের সমস্যা সমাধানে দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন নাগরিক সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুশাসন প্রতিষ্ঠা কেবল সরকারের একক প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়; বরং এতে নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা আবশ্যক।
সচেতন নাগরিক সমাজ প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকারকে চাপ দিতে পারে, যা দুর্নীতি রোধে সহায়ক। উদ্দীপকে দেখা যায় যে দেশটিতে শিক্ষা বিস্তারের ফলে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম পূর্বশর্ত। শিক্ষিত ও সচেতন নাগরিকরা নিয়মিত কর প্রদান করে এবং রাষ্ট্রীয় আইন মেনে চলে সুশাসনের পথ সুগম করে।
এছাড়া, নাগরিক সমাজ যখন রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে একযোগে কাজ করে, তখন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসে এবং দলীয় সংকীর্ণ স্বার্থের ঊর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থ প্রাধান্য পায়। নাগরিকদের সচেতনতামূলক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করার মাধ্যমে একটি দুর্নীতিমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন সম্ভব।
অতএব বলা যায়, 'W' দেশের বিদ্যমান দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে সচেতন নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ও দৃঢ় নৈতিকতাই টেকসই উন্নয়নের মূল শক্তি। সুতরাং, দায়িত্বশীল নাগরিক সমাজের সক্রিয় ভূমিকাই উদ্দীপকের সমস্যাগুলো সমাধানের প্রধান ও কার্যকর মাধ্যম।