লসিকা: মানবদেহে বিভিন্ন টিস্যুর মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থানে যে জলীয় পদার্থ (ঈষৎ ক্ষারীয় স্বচ্ছ হলুদ বর্ণের তরল পদার্থ) জমা হয় তাকে লসিকা বলে।
সিভনল, সঙ্গীকোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং ফ্লোয়েম তন্তু নিয়ে ফ্লোয়েম টিস্যু গঠিত হয়। ফ্লোয়েমকে পরিবহন টিস্যু বলা হয় কারণ, ফ্লোয়েম পাতায় প্রস্তুতকৃত খাদ্য উদ্ভিদ দেহের বিভিন্ন স্থানে পরিবহণ করে। এছাড়াও ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা উদ্ভিদদেহে খাদ্য তৈরি ও সঞ্চয় করে এবং ফ্লোয়েম স্ক্লেরেনকাইমা উদ্ভিদদেহের বাইরে তন্তু বা আঁশ সৃষ্টির মাধ্যমে বাইরের প্রতিকূল পরিবেশ থেকে উদ্ভিদকে রক্ষা করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'X' হলো স্নায়ুটিস্যু। কেননা, স্নায়ুটিস্যুই সেন্ট্রিওলবিহীন প্রাণিকোষ যা পরিবেশ থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করে তা বিশ্লেষণের মাধ্যমে পেশীগুলোকে কাজের নির্দেশ দেয় এবং স্মৃতি সংরক্ষণ করে। নিচে নিউরনের গঠন ব্যাখ্যা করা হলো:
i. কোষদেহ: নিউরনের কোষদেহ বহুভুজাকৃতির এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত। কোষের সাইটোপ্লাজমে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগিবডি, রাইবোজোম, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি থাকে। সাইটোপ্লাজমে সক্রিয় সেন্ট্রিওল না থাকায় নিউরন বিভাজিত হয় না।
ii. ডেনড্রাইট: কোষের চারদিকে শাখাযুক্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রলম্বিত অংশকে ডেনড্রন বলে। ডেনড্রন থেকে যে শাখা বের হয়, তাদের ডেনড্রাইট বলে। ডেনড্রাইটের সংখ্যা এক বা একাধিক হতে পারে।
iii. অ্যাক্সন: নিউরনের কোষদেহ থেকে যে লম্বা স্নায়ুতন্ত্র পরবর্তী নিউরনের ডেনড্রাইটের সাথে যুক্ত থাকে তাকে অ্যাক্সন বলে। পরপর দুটি নিউরনের প্রথমটির অ্যাক্সন এবং পরেরটির ডেনড্রাইটের মধ্যে যে স্নায়ুসন্ধি গঠিত হয় তাকে সিন্যাপস বলে। সিন্যাপস এর মধ্য দিয়েই একটি নিউরন থেকে উদ্দীপনা পরবর্তী নিউরনে পরিবাহিত হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত Y হলো হৃৎপিণ্ড। মানবদেহকে সচল রাখতে হৃৎপিণ্ডের ভূমিকা অপরিসীম। নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো-রক্ত সংবহনতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ হৃৎপিণ্ড। এর সাহায্যেই সংবহনতন্ত্রের রক্ত প্রবাহ সচল থাকে। হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠগুলো সম্পূর্ণ বিভক্ত থাকায় এখানে অক্সিজেনযুক্ত ও অক্সিজেনবিহীন রক্তের সংমিশ্রণ ঘটে না।
দেহের প্রতিটি কোষে পুষ্টি ও অক্সিজেন সরবরাহ এবং উৎপন্ন বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন প্রয়োজন। এ কাজটি রক্তের মাধ্যমে হয়ে থাকে। আর এ কাজটি পরিচালনা করে হৃৎপিণ্ড। যদি হৃৎপিণ্ড কোন কারণে রক্ত পরিবহন বন্ধ করে দেয়, তাহলে সকল কোষে অক্সিজেন পৌঁছানো বন্ধ হয়ে যাবে। মস্তিষ্কে অক্সিজেন এবং পুষ্টিদ্রব্য না পৌছালে এবং কোষের জৈবনিক ক্রিয়ার উৎপন্ন বর্জ্য পদার্থ ও কার্বন ডাই অক্সাইড এর পরিমাণ বাড়তে থাকলে শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং আক্রান্ত ব্যক্তি মৃত্যুমুখে পতিত হবে।
সুতরাং হৃৎপিণ্ড দেহের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণুগুলির একটি। মানবদেহকে সুস্থ ও সচল রাখতে তাই হৃৎপিণ্ডের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
