| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘’X’ একটি সংগঠনের…’ ভোলা সরকারি কলেজ ২০২৬ – রাজনৈতিক দল, নেতৃত্ব ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

‘X’ একটি সংগঠনের সদস্য এবং এ সংগঠনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো জনসমর্থনের মাধ্যমে রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভ করা। অন্যদিকে, ‘Y’ যে সংগঠনের সদস্য সেটির গোষ্ঠী স্বার্থ উদ্ধারই মূল লক্ষ্য। ‘X’-এর সংগঠন রাজনৈতিক সামাজিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৬
নেতৃত্ব হলো একটি শক্তিশালী কৌশল যার মাধ্যমে নেতা নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য অন্যান্য ব্যক্তিকে পরিচালিত, প্রভাবিত ও নিয়ন্ত্রণ করেন এবং সমাজে ইন্সিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য অন্যদের উদ্দীপ্ত করেন।
যখন কোনো দেশে প্রধানত দুটি রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়, তখন তাকে দ্বিদলীয় ব্যবস্থা বলে। দ্বিদলীয় ব্যবস্থায় সাধারণত রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা দুটি দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্রেটিক পার্টি ও রিপাবলিকান পার্টি এবং গ্রেট ব্রিটেনে রক্ষণশীল দল এবং শ্রমিক দল দ্বিদলীয় ব্যবস্থার উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
উদ্দীপকে 'X' সংগঠন ও 'Y' সংগঠনের দ্বারা রাজনৈতিক দল ও চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী এ দুই সংগঠনকে বোঝানো হয়েছে। নিচে এ দুটি সংগঠনের মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো-
১. রাজনৈতিক দলগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য সাধারণ নীতিমালা প্রণয়ন ও কার্যকরী করে সরকারি ক্ষমতা অর্জনের জন্য তৎপর থাকে। অপরদিকে, চাপসৃষ্টিকারী সংগঠন হচ্ছে এমন এক গোষ্ঠী যার" সদস্যগণ সমজাতীয় মনোভাব এবং স্বার্থের দ্বারা আবদ্ধ।
২. রাজনৈতিক দলের সামনে বৃহৎ জাতীয় কল্যাণের লক্ষ্য থাকে যা চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মধ্যে থাকে না।
৩. সাংগঠনিক দিক থেকে রাজনৈতিক দল অনেক শক্তিশালী কিন্তু সাংগঠনিকভাবে চাপসৃষ্টিকারী সংগঠন অনেক দুর্বল।
৪. রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য হলো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল কিন্তু চাপসৃষ্টিকারী সংগঠনের লক্ষ্য হলো সরকারি সিদ্ধান্তকে নিজেদের অনুকূলে প্রভাবিত করা।
৫. রাজনৈতিক দলের কাজকর্ম প্রকাশ্য ও প্রত্যক্ষ। কিন্তু চাপসৃষ্টিকারী সংগঠনের কাজকর্ম সবসময় প্রকাশ্য থাকে না।
৬. রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে কিন্তু চাপসৃষ্টিকারী সংগঠন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে না।
৭. রাজনৈতিক দলে নেতৃত্বের স্তরভেদ দেখা যায় কিন্তু চাপসৃষ্টিকারী সংগঠনে নেতৃত্বের স্তরভেদ দেখা যায় না।
উদ্দীপকে বর্ণিত 'X' সংগঠনের তথা রাজনৈতিক দলের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলের ভূমিকা অত্যন্ত ব্যাপক ও বিস্তৃত। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক শক্তির মূল উৎস হলো জনগণ। গণতন্ত্রকে সফল করতে হলে প্রয়োজন সক্রিয়, সচেতন ও সদাজাগ্রত জনমত। রাজনৈতিক দল বক্তৃতা-বিবৃতি ও প্রচারের মাধ্যমে জনমত - সৃষ্টি করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নির্বাচনের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিভিন্ন কর্মসূচি প্রকাশ করে। জনগণ এর মধ্য থেকে সবচেয়ে কল্যাণকর ও বাস্তবমুখী কর্মসূচিসম্পন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতি তাদের আস্থা ও সমর্থন জ্ঞাপন করে। জনগণ সহজেই তাদের পছন্দের দলকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শাসন করার সুযোগ ব্যালটের মাধ্যমে প্রয়োগ করে থাকে। গণতন্ত্রে জনগণ ও সরকারের মধ্যে সেতুবন্ধনের দায়িত্ব পালন করে রাজনৈতিক দল, যা গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠার জন্য, অপরিহার্য। রাজনৈতিক দল জনগণকে রাজনৈতিক বিষয়ে সচেতন করে বিশেষ ভূমিকা পালন করে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত রাখে। এছাড়া রাজনৈতিক দল শান্তিপূর্ণ উপায়ে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার বদলে সাহায্য করে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা ও সুসংহত করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। রাজনৈতিক দলের এরূপ ভূমিকার কারণে রাজনৈতিক দলকে গণতন্ত্রের প্রাণ বলা হয়।
সুতরাং, উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে, বলা যায়, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক দলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।