প্রকৃত কোষের সাইটোপ্লাজমে প্রোটিন নির্মিত যেসব অতিসূক্ষ্ম সংকোচনশীল তন্তু কোষের চলনে অংশগ্রহণ করে এরাই হলো মাইক্রোফিলামেন্ট।
যৌন প্রজননের জন্য ডিপ্লয়েড জীবের জননাঙ্গে মিয়োসিস পদ্ধতিতে জনন মাতৃকোষের বিভাজন ঘটে এবং জননকোষ উৎপন্ন হয়। অপত্য জননকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক থাকে। অর্থাৎ জননকোষ হ্যাপ্লয়েড হয়। পুং ও স্ত্রী জননকোষের মিলনে ডিপ্লয়েড কোষের সৃষ্টি হয়। তাই যৌন প্রজননের লক্ষ্যে জননকোষ হ্যাপ্লয়েড হয়।
উদ্দীপকে 'X' হলো Gnetum এ প্রাপ্ত জটিল টিস্যু, যা ভেসেলকে নির্দেশ করছে। নিচে ভেসেলের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা হলো-
ভেসেল কোষগুলো খাটো চোঙের মতো। কোষগুলো একটির মাথায় আরেকটি সজ্জিত হয় এবং প্রান্তীয় প্রাচীরটি গলে গিয়ে একটি দীর্ঘ নলের মতো অঙ্গের সৃষ্টি করে। এর ফলে কোষরসের উপরে ওঠার জন্য একটি সরু পথ সৃষ্টি হয়ে যায়। প্রাথমিক অবস্থায় এ কোষগুলো প্রোটোপ্লাজমপূর্ণ থাকলেও পরিণত বয়সে এরা মৃত এবং প্রোটোপ্লাজমবিহীন হয়। ভেসেলের প্রাচীর ট্রাকিডের মতো 'বিভিন্নরূপে পুরু হয়, যেমন- সোপানাকার, সর্পিলাকার, বলয়াকার, কৃপাঙ্কিত ইত্যাদি। ভেসেল সাধারণত কয়েক সেন্টিমিটার লম্বা হয়। তবে বৃক্ষ বা আরোহী উদ্ভিদে আরও অনেক লম্বা হতে পারে। এদের প্রধানত গুপ্তবীজী উদ্ভিদের সব অঙ্গে দেখা যায়। নগ্নবীজী উদ্ভিদের মধ্যে উন্নত উদ্ভিদ, যেমন নিটামে (Gnetum) প্রাথমিক পর্যায়ের ভেসেল থাকে।
উদ্দীপকে 'Y' নির্দেশিত অঙ্গটি হলো স্নায়ুকোষ বা নিউরন।
নিউরন হলো স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একক। নিউরন দেহের বিভিন্ন অঙ্গের নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
আমাদের সমগ্র দেহের বিভিন্ন কাজের সুসংবদ্ধতার জন্য প্রয়োজন লক্ষ লক্ষ কোষের সমন্বয় সাধন। দেহের বিভিন্ন অঙ্গের কাজের সমন্বয় সাধনের জন্য স্নায়ুতন্ত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমাদের দেহ চলে পরিবেশের উদ্দীপনা ও সাড়া জাগানোর ফলে। দেহের বাইরের জগত হলো বাহ্যিক পরিবেশ এবং দেহের ভেতর হলো অভ্যন্তরীণ পরিবেশ। বাহ্যিক পরিবেশের উদ্দীপক হলো আলো, গন্ধ, স্বাদ এবং স্পর্শ। এসব চোখ, কান, নাক, জিহ্বা এবং চর্মের অনুভূতিবাহী স্নায়ুপ্রান্তে উদ্দীপনা জাগায়। অভ্যন্তরীণ পরিবেশের উদ্দীপক হলো চাপ, তাপ ও বিভিন্ন রাসায়নিক বস্তু। এরা অভ্যন্তরীণ অঙ্গের কেন্দ্রমুখী প্রান্তে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। যেকোনো উদ্দীপক অনুভূতি ও কেন্দ্রমুখী স্নায়ুতন্ত্রে তাড়না সৃষ্টি করে। এই তাড়না মস্তিষ্কে পৌঁছে। মস্তিষ্কে সিদ্ধান্ত নিয়ে আজ্ঞাবাহী বা মোটরস্নায়ু যোগে তাড়না পাঠিয়ে পেশি কিংবা গ্রন্থিতে সাড়া জাগায় ও কোনো কাজ করতে সাহায্য করে।
তাই বলা যায়, নিউরন বিভিন্ন অঙ্গের নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
