| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘X = জীবদেহে…’ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ২০২৬ – কোষ রসায়ন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

X = জীবদেহে বিদ্যমান বৃহৎ পলিপেপটাইড যৌগ
Y = বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৩
চারটি ভিন্নতর কার্বন রিং-এর শিরদাঁড়া এবং তাতে কার্বনের পার্শ্বশিকল নিয়ে গঠিত লিপিড হলো স্টেরয়েড। কোলেস্টেরল হলো একধরনের লিপিড।
স্তন্যপায়ী প্রাণীর পরিপাকতন্ত্রে সেলুলোজ পরিপাককারী বা হজমকারী এনজাইম তৈরি হয় না। তৃণতোজী স্তন্যপায়ী যেমন- গরু, ছাগল, মহিষ, হরিণ ইত্যাদির পরিপাকতন্ত্রে একধরনের মিথোজীবী ব্যাক্টেরিয়া বাস করে যারা সেলুলোজ হজমকারী এনজাইম সেলুলেজ উৎপাদন করে যা সেলুলোজে বিদ্যমান β-1-4 গ্লাইকোসাইডিক লিংকেজ ভেঙে সেলুলোজকে হজমে সাহায্য করে। মানুষের পরিপাকতন্ত্রে এ ধরনের কোনো মিথোজীবী ব্যাকটেরিয়া না থাকায় মানুষ সেলুলোজ হজম করতে পারে না।
উদ্দীপকের হলো এনজাইম যা বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। এনজাইমের ক্রিয়াকৌশল ব্যাখ্যা করতে জার্মান রসায়নবিদ Emil Fishcher এনজাইমের তালা-চাবি মতবাদ প্রকাশ করেন। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
কোনো নির্দিষ্ট এনজাইমের এক বা একাধিক সক্রিয় স্থান বা অ্যাকটিভ সাইট থাকে। Emil Fischer অ্যাকটিভ সাইট প্রস্তাব করেন। পলিপেপটাইড চেইনের ফোলডিং এর মাধ্যমে অ্যাকটিভ সাইট সৃষ্টি হয়। অ্যাকটিভ সাইট ও সাবস্ট্রেটের মধ্যে সম্পর্ক তালা চাবির মতো সুনির্দিষ্ট।
১. প্রথমে সাবস্ট্রেট অণু এনজাইমের সক্রিয় স্থান তথা অ্যাকটিভ সাইটে সংযুক্ত হয়ে এনজাইমে সাবস্ট্রেট যৌগ সৃষ্টি করে।
২. দ্বিতীয় পর্যায়ে এনজাইম-সাবস্ট্রেট যৌগ ভেঙে গিয়ে নতুন পদার্থ সৃষ্টি হয় এবং এনজাইম অপরিবর্তিতভাবে পৃথক হয়ে যায়।
যেকোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা অতিরিক্ত শক্তির দরকার হয়। এ অতিরিক্ত শক্তিকে কার্যকরী শক্তি বলে। এনজাইম- সাবস্ট্রেটের কার্যকরী শক্তি কম। তাই কম কার্যকরী শক্তিসম্পন্ন সাবস্ট্রেট অণু এনজাইমের সাথে যুক্ত হয়ে এনজাইম-সাবস্ট্রেট যৌগ সৃষ্টি করে, ফলে বিক্রিয়ার হার বেড়ে যায়। এভাবে এনজাইমের ক্রিয়া সমাপ্ত হয়।
উদ্দীপকের বর্ণিত X যৌগটি হলো প্রোটিন। প্রোটিন জীবদেহে বিদ্যমান বৃহৎ পলিপেপটাইড যৌগ। নিচে জীবদেহে প্রোটিনের ভূমিকা ব্যাখ্যা করা হলো-
জীবদেহে প্রোটিনের ভূমিকা অত্যাবশ্যকীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি দেহের গঠন উপাদানের একটি বড় অংশ। প্রোটিন ছাড়া দেহাঙ্গ বা অঙ্গাণুর সঠিক গঠন সম্ভব নয়। সজীব দেহ কতগুলো রাসায়নিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ার সমষ্টি মাত্র। আর এসব ক্রিয়া-বিক্রিয়া এনজাইম কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। সব এনজাইমই প্রোটিন। 'জিন'-এর বৈশিষ্ট্য প্রকাশ ঘটে প্রোটিনের মাধ্যমে, আর বৈশিষ্ট্য প্রকাশ ছাড়া জীবের অস্তিত্ব নেই। জীবদেহের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন হরমোন বিশেষ বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। অধিকাংশ হরমোনই প্রোটিন। দেহের ইমিউন সিস্টেমও প্রোটিন নির্ভর। প্রোটিন দেহের শক্তির উৎস হিসেবেও কাজ করে। কোষচক্র সম্পন্ন করতেও প্রোটিনের প্রয়োজন হয়। ট্রান্সক্রিপশন সম্পন্ন করতেও প্রোটিনের প্রয়োজন হয়।
ইন্টারফেরন নামক বিশেষ প্রোটিন ভাইরাস প্রতিরোধক হিসেবে ব্লাড ক্যান্সার নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। রোগ জীবাণু ধ্বংস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য পোষক দেহে যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয় তা সংশ্লেষ করতে প্রোটিন এর প্রয়োজন হয়। বিভিন্ন জীবের বিপাকীয় বিক্রিয়ায় প্রোটিন থেকে বিষাক্ত পদার্থ উৎপন্ন হয়। এসব পদার্থ জীবের আত্মরক্ষার জন্য বিশেষ সহায়ক। যেমন- সাপের বিষ। মস্তিষ্কে উৎপন্ন এন্ডোরফিন ব্যথানাশক হিসেবে অতি সম্প্রতি আবিষ্কৃত ঘুম আনয়নকারী s-factor বিশেষ ধরনের প্রোটিন বলে প্রমাণিত হয়েছে।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বুঝা যায় যে, জীবদেহে প্রোটিনের গুরুত্ব অপরিসীম।