(X, Y, E প্রতীকী অর্থে ব্যবহৃত)
একটি অণুতে মৌলের পরমাণুগুলো যেভাবে সাজানো থাকে প্রতীক এবং বন্ধনের মাধ্যমে তা প্রকাশ করাকে গাঠনিক সংকেত বলে।
নিয়ন (Ne) কে নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলা হয়। কারণ, এর ইলেকট্রন বিন্যাস - এ সর্ববহিঃস্থ স্তরে ইলেকট্রন দ্বারা অষ্টক পূর্ণ থাকে, যা অত্যন্ত সুস্থিত। এ সুস্থিত ইলেকট্রন বিন্যাস ভাঙতে অনেক শক্তির প্রয়োজন। তাই Ne স্বাভাবিক অবস্থায় কোনো মৌলের সাথে যুক্ত হয় না। অর্থাৎ বহিঃস্থ স্তরের সুবিন্যস্ত ইলেকট্রন বিন্যাসের কারণে Ne নিষ্ক্রিয় হয়।
উদ্দীপকের তথ্যমতে, মৌলটি ক্লোরিন (Cl)। সুতরাং, অণুটি হচ্ছে । নিচে অণুর বন্ধন গঠন প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হলো-
Cl এর ইলেকট্রন বিন্যাস,
ইলেকট্রন বিন্যাস হতে দেখা যায়, এর শেষ কক্ষপথে টি ইলেকট্রন বিদ্যমান। ফলে অষ্টক পূরণের জন্য এর 1টি ইলেকট্রন প্রয়োজন। এক্ষেত্রে দুটি ক্লোরিন (CI) পরমাণু পরস্পর 1টি করে ইলেকট্রন শেয়ার করে নিকটবর্তী নিষ্ক্রিয় গ্যাস এর ইলেকট্রন বিন্যাস লাভ করে এবং অণু গঠন করে।
উদ্দীপকের ও মৌল তিনটি যথাক্রমে ও Cl(17)। সুতরাং, Y ও E মৌলদ্বয় দ্বারা গঠিত যৌগ , যা পানিতে অদ্রবণীয়। অপরদিকে X ও E মৌলদ্বয় দ্বারা গঠিত যৌগ LiCl , যা পানিতে দ্রবণীয়। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
LiCl একটি আয়নিক যৌগ। সাধারণত আয়নিক যৌগগুলো পানিতে দ্রবীভূত হয়। আয়নিক যৌগ LiCl কে পানিতে দ্রবীভূত করলে এটি ধনাত্মক আয়ন ও ঋণাত্মক আয়নে বিশ্লিষ্ট হয়। ধনাত্মক আয়নকে ঘিরে পোলার পানি অণুর ঋণাত্মক মেরু আকৃষ্ট হয় এবং ঋণাত্মক আয়নকে ঘিরে পানির ধনাত্মক মেরু আকৃষ্ট হয়। LiCl যৌগের ল্যাটিশ শক্তির মান কমতে থাকে এবং হাইড্রেশন শক্তির মান বৃদ্ধি পায়। ল্যাটিশ শক্তি অপেক্ষা হাইড্রেশন শক্তির মান এক সময় বেশি হয় এবং LiCl যৌগটি পানিতে দ্রবণীয় হয় ।
অপরদিকে, একটি অপোলার সমযোজী যৌগ। এর কোনো ধনাত্মক বা ঋণাত্মক আয়ন নেই। তাই এটি পোলার পানি ( ) অণু দ্বারা আকৃষ্ট হয় না বলে পানিতে অদ্রবণীয়।
