| ㅤ | A. Nayan19 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘Y একজন মধ্যবয়সী…’ রাজশাহী বোর্ড ২০১৭ – তাসাউফ, ইসলাম শিক্ষা, ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র (এইচএসসি)

Y একজন মধ্যবয়সী সচ্ছল মানুষ। কিন্তু তিনি কখনো অপব্যয় করেন না এবং মৌলিক ইবাদত বাদ দেন না। বর্তমানে তিনি অধিক রাত জেগে সালাত ও জিকির আজকার করছেন অন্তরের পরিশুদ্ধি এবং আল্লাহর নৈকট্যের আশায়। তার ভাই Z বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন। তিনি শুধু মৌলিক ইবাদতটুকুই করেন। জীবনযাপনের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হয়ে বলেন, আমি ব্যস্ত মানুষ, সময় পাই না। তাছাড়া একদমই রাত জাগতে পারি না।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৭
নৈতিক মূল্যবোধ বলতে মানুষের সেই সকল সার্বজনীন মূল্যবোধকে বোঝায় যেগুলো নীতিজ্ঞান ও বিবেকবোধ থেকে উৎসারিত হয়ে মানুষের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে।
হযরত হাসান বসরি (র) একজন বিখ্যাত তাবেয়ি ও সুফি দার্শনিক। হযরত হযরত হাসান বসরি (র) হিজরি ২১ মোতাবেক ৬৪২ খ্রিষ্টাব্দে মদিনায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি জীবনের বেশিরভাগ সময় বসরায় অতিবাহিত করেছেন বিধায় তাঁর নামের সাথে 'বসরি' শব্দটি যুক্ত হয়েছে। তাঁর পিতার নাম মুসারাবি, যিনি হযরত আবু বকর (রা) এর নিকট ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁর মায়ের নাম খায়েরাহ। ইলমে ফিকহ ও ইলমে তাসাউফের চর্চার মাধ্যমে হযরত হাসান বসরি (র) অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। তাঁকে সুফিবাদের শাস্ত্রীয় ও তাত্ত্বিক প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।
Y-এর আচরণ ইসলামের আধ্যাত্মিক দিক তাসাউফের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করে।
তাসাউফ এমন এক জ্ঞান, যার দ্বারা কালব বা অন্তরের ভালো-মন্দ অবস্থা জানা যায় এবং এর প্রতিকার করা যায়। সাথে সাথে মানুষের মধ্যকার পশুশক্তিকে দমন করে মানবিক গুণাবলিতে ভূষিত হওয়া যায়, যাতে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের পথ সুগম হয়। উদ্দীপকে Y এই তাসাউফের চর্চাতেই নিজেকে নিয়োজিত করেছেন।
Y-এর কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি কখনো অপব্যয় করেন না এবং মৌলিক ইবাদত বাদ দেন না। বর্তমানে তিনি অধিক রাত জেগে সালাত ও জিকির আজকার করছেন। তাঁর লক্ষ্য অন্তরের পরিশুদ্ধি অর্জন এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা। এ থেকে বোঝা যায়, তিনি তাসাউফ চর্চার মাধ্যমে নিজ আত্মাকে পরিশুদ্ধ করতে চাচ্ছেন। আত্মাকে সুস্থ ও পবিত্র রাখতে জিকির এবং সালাত আদায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জিকির- আল্লাহর নাম ও গুণ স্মরণ করে এবং কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে করা হয়। যেকোনো কাজ করার সময় আল্লাহর নির্দেশ মনে করা ও মেনে চলাও জিকির। তাছাড়া তাসাউফ চর্চার জন্য বিনয়, নম্রতা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে সকল ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নত সালাত আদায় করতে হবে। পাশাপাশি গুরুত্বের সাথে তাহাজ্জুদ ও অন্যান্য নফল সালাতও আদায় করতে হবে। উদ্দীপকের Y এই সকল ইবাদত পালনের মাধ্যমেই আত্মিক প্রশান্তি লাভের চেষ্টা করছেন। সুতরাং তার কর্মকাণ্ড তাসাউফের সাথেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আত্মশুদ্ধির জন্য উদ্দীপকের Y-এর ন্যায় মৌলিক ইবাদত করার পাশাপাশি বেশি বেশি রাত জেগে সালাত আদায় ও জিকির করা আবশ্যক।
মানুষের চালিকাশক্তি ও জীবনীশক্তি হলো আত্মা। আত্মা পবিত্র থাকলে মানুষ পবিত্র থাকে। আত্মা সুস্থ থাকলে মানুষও সুস্থ থাকে। শরীর সুস্থ ও পবিত্র থাকার পরও যদি কেবল আত্মা অপবিত্র বা অসুস্থ থাকে, তাহলে মানুষের পক্ষে সুস্থ ও পবিত্র থাকা সম্ভব হয় না। আর এজন্যেই আত্মশুদ্ধি অর্জনে উদ্দীপকের Y-এর ন্যায় চেষ্টা করতে হবে। আত্মশুদ্ধি অর্জনের জন্যে প্রথমেই আল্লাহর নিকট তাওবা করা প্রয়োজন। পাপ বর্জন করা, অতীতের পাপাচারের জন্য অনুতাপ- অনুশোচনা করা এবং ভবিষ্যতে কোনো পাপ কাজ না করার প্রতিজ্ঞাই হলো তাওবা। এভাবে তাওবা করে সকল প্রকার পাপাচার ও কুপ্রবৃত্তি পরিহার করতে হবে। সেই সাথে সকল প্রকার পার্থিব ভোগবিলাস, লোভ-লালসা পরিত্যাগ করে আল্লাহর প্রেমে নিজেকে আত্মোৎসর্গ করতে হবে। তবে আত্মশুদ্ধির জন্য সবচেয়ে কার্যকর হলো সালাত আদায় ও বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করা। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়ের পাশাপাশি আল্লাহভীতির সাথে রাত জেগে তাহাজ্জুদ ও নফল নামাজ আদায় করতে হবে। এভাবে খুব সহজেই আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা সম্ভব। তাছাড়া আত্মশুদ্ধির জন্য সর্বাবস্থায় আল্লাহর জিকির করতে হবে, আল্লাহকে স্মরণ করতে হবে এবং সকল কাজে আল্লাহর বিধান মেনে চলতে হবে। কুরআন তেলাওয়াতও জিকিরের অন্তর্ভুক্ত। তাই গভীর ধ্যানের সাথে বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত করতে হবে।
পরিশেষে চলা যায়, উপর্যুক্ত পন্থা অবলম্বনের মাধ্যমে যেকোনো মুসলমানের পক্ষে উদ্দীপকের Y এর ন্যায় আত্মশুদ্ধি অর্জন করা সম্ভব।